• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

ধারের টাকা দিতে ব্যর্থ বাবা, দেড় মাস লাগাতার মেয়েকে ধর্ষণ


বাংলাবাজার ডেস্ক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২০, ১২:২৭ পিএম ধারের টাকা দিতে ব্যর্থ বাবা, দেড় মাস লাগাতার মেয়েকে ধর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ৩৫ হাজার টাকার জন্য এক কিশোরীকে দেড় মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় কিশোরীকে উদ্ধার ও ধর্ষকসহ ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা গতকাল দিনভর যৌথ অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের খুরুস্কুল এলাকা থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলো- কক্সবাজার খরুলিয়া চেয়ারম্যানপাড়ার আবদুল গনির ছেলে শাহাব উদ্দীন, সহযোগী পেকুয়া উজানটিয়ার আরমান হোসেন, খরস্কুল হাটখোলাপাড়ার নুরুল আলম ও পেঁচারঘোনার লোকমান। তাদের কক্সবাজার সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

উদ্ধার কিশোরী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে শনিবার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনীর উল গীয়াস।

র‌্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশেকুর রহমান জানান, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় ৩৫ হাজার টাকার জন্য এক টমটম চালকের কিশোরী মেয়েকে অপহরণ পূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণের একটি অভিযোগ পাওয়ার যায়।

এর পর বৃহস্পতিবার দিনভর কক্সবাজারের খুরুস্কুলসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার ও প্রধান অভিযুক্তসহ ৪ জনকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

ভুক্তভোগীর মা জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পশ্চিম জুমছড়ির টমটম চালক মাহবুব আলমের সাথে খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার আব্দুল গনির ছেলে শাহাবুদ্দিনের টমটম চালাতে গিয়ে সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে শাহাবুদ্দিন মাহবুব আলমের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত।

মাহবুবের টাকার প্রয়োজন শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেয়। টানাপড়েনের সংসারের মাহবুব আলম ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।

এই সুযোগে শাহাবুদ্দিন মাহবুবের কিশোরী কন্যাকে জোরপূর্বক লোকজন নিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। টমটম চালক শাহাবুদ্দিন টাকা ফেরত না দিলে মেয়েকে আর ফেরত দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

তিনি জানান, মেয়েকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় মেম্বার ও খরুলিয়ার মেম্বার আবদুর রশীদের কাছে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করি।

তাতেও মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তারপর মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সরকারি সহায়তা নম্বর ৯৯৯ ফোন করে মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানান।

বিষয়টি কক্সবাজার মডেল থানাকে অবগত করা হলে কক্সবাজার মডেল থানার এসআই মনসুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ায় টমটম চালক শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য ১১ অক্টোবর অভিযান চালায়।

অভিযানের খবর আগে থেকে জেনে যাওয়ায় শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন উক্ত মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। অবশেষে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করে।