• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

ধর্ষণবিরোধী লং মার্চ থেকে রাজপথ অবরোধের ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২০, ১১:৩৩ পিএম ধর্ষণবিরোধী লং মার্চ থেকে রাজপথ অবরোধের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে’ ৯ দফা দাবিতে বাম সংগঠনগুলোর আয়োজনে লং মার্চ শেষ হয়েছে নোয়াখালীতে। শুক্রবার ঢাকা থেকে লং মার্চটি শুরু হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীতে এক সমাবেশের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-নোয়াখালী লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘এ সরকার ধর্ষকদের লালন করে যাচ্ছে। যারা ধর্ষকদের লালন-পালন করছে তাদের বিচার চাই।

ফেনীতে আমাদের শান্তিপূর্ণ লংমার্চে পুলিশ ও সরকারের দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। আমাদের কত আর মারবেন? এ দেশের তরুণরা লড়াই করে যাবে। আমাদের আন্দোলন চলবে।’

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ১৯ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ২১ অক্টোবর সারা দেশে রাজপথ অবরোধের ঘোষণা দেন।

শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সমাপনী সমাবেশে তারা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে হরতাল অবরোধের মতো বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নোয়াখালী লংমার্চের সমন্বয়ক ও জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুনের সভাপতিত্বে ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক পলাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট একাংশের সভাপতি মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট একাংশের সভাপতি আল কাদরী জয়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ নারী মুক্তির সীমা দত্ত প্রমূখ।

এর আগে লংমার্চটি ফেনী শহর হয়ে নোয়াখালী আসার পথে দফায় দফায় হামলার শিকার হয়। ফেনী শহরে শান্তিপাড়া এলাকায় প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হলে ফেনী শহরের মিশন হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা আবারও হামলা চালায়।

পথে ফেনী জেলার দাগনভুঞা উপজেলা অতিক্রম করার সময় আবারও লংমার্চে হামলা করে দুর্বৃত্তরা।

এরপর লংমার্চটি চৌমুহনী পৌঁছলে আহত ১৬ জনকে চৌমুহনী লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এবং ১১ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দফায় দফায় হামলার কারণে নেতারা বেগমগঞ্জের একলাশপুরে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ওই নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করেন। পরে নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, লংমার্চে মানুষের ঢল দেখে ক্ষমতাসীনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

তাই ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা করে দু’শতাধিক অংশগ্রহণকারীকে আহত করেছে বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ বলেন, আহতরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও চৌমুহনী লাইফ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।