• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

যে শর্তে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চায় ভারত, অনাগ্রহী ব্যবসায়ীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০, ০৩:২২ পিএম যে শর্তে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চায় ভারত, অনাগ্রহী ব্যবসায়ীরা

স্থলপথে নয়, সমুদ্রপথে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চায় ভারত। তবে ভারতের এমন শর্ত মেনে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি করতে মোটেও আগ্রহী নন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, যদি রপ্তানি করতেই হয় তাহলে স্থলবন্দর দিয়েই করতে হবে। সমুদ্রপথ দিয়ে নয়। কারণ তারা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে চান না। তাছাড়া, সমুদ্রপথে বাণিজ্য তাদের পরিচিতও না।

জাানা যায়, আপাতত ২০ হাজার টন পেঁয়াজ বিদেশে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। তবে যে পদ্ধতিতে পেঁয়াজ পাঠাতে রাজি হয়েছে তাতে বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা খুব বেশি লাভবান হবেন না। আর এই রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়াটি করতে হবে চেন্নাই সমুদ্র বন্দর দিয়ে।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আচমকাই বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত সরকার। এতে বিপাকে পড়েন ভারত থেকে এলসি করা বাংলাদেশি পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। বন্ধ হয়ে যায় পেঁয়াজ আমদানি।

সীমান্তের ভারতীয় অংশে আটকে পড়ে শত শত পেঁয়াজভর্তি ট্রাক। বাংলাদেশের বাজারে হুহু করে বাড়তে থাকে দাম।

বর্তমানে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় হিলিসহ দেশের অন্য ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার, পাকিস্তান ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করলে ভারত আবার বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির আগ্রহ দেখায়।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির সবুজ সংকেত দেয় মোদি সরকার। এরইমধ্যে ভারত সরকারের একটি ঘোষণায় বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও শর্তজুড়ে দেয়ায় তা ফিকে হয়ে গেছে।

আগামী বছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাঁচটি শর্তে ২০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো, এই পেঁয়াজ সড়কপথে নয়, সমুদ্রপথে চেন্নাই বন্দর দিয়ে নিতে হবে। আর রপ্তানি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তে তেমন উপকৃত হবে না বাংলাদেশ। ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক না হওয়ায় বাংলাদেশি আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ দেখাবেন না বলেও মনে করেন তারা

পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলসি করার পরও ভারত আমাদের পেঁয়াজ দিচ্ছে না। ফলে আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লোকসানে রয়েছি। তার ওপর ভারতের একটার পর একটা নতুন সিদ্ধান্ত আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

আমরা ভারতের ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি, নদী কিংবা সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারব না। কারণ সমুদ্রপথে ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া, সমুদ্রপথে আমরা কখনও আমদানিও করিনি।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ বলেন, ‘টানা এক মাসের বেশি হলো ভারত আমাদের দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। আবার তারা গত ৯ অক্টোবর নতুন করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করার আগ্রহ দেখিয়ে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে।

কিন্তু এসব শর্তের খবরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাদের এসব শর্তে আমদানি করতে রাজি না হিলির ব্যবসায়ীরা। যদি রপ্তানি করতে হয়, তাহলে হিলি স্থলবন্দর দিয়েই করতে হবে। সমুদ্রপথ দিয়ে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী নন।’

‘আমরা যারা ব্যবসায়ীরা অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছি সেই গতিকে থামিয়ে দেয়ার জন্য এটা তাদের কৌশল হতে পারে,’ দাবি করেন হারুন উর রশিদ।