• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

আদালতে বিয়ের পর কনে গেলেন বাড়িতে, বর কারাগারে


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২০, ১২:২২ পিএম আদালতে বিয়ের পর কনে গেলেন বাড়িতে, বর কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বাদীর সঙ্গে আপসের পর কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে মামলার আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা জজ আদালতের পিপির কক্ষে অভিযুক্ত যুবক (৩০) ও মামলা বাদীর (২৪) এ বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

তবে আপসের শর্তে বিয়ে হলেও বরকে যেতে হয়েছে কারাগারে। আর স্বজনদের সঙ্গে কনে (মামলার বাদী) চলে যান বাড়িতে। কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে এ বিয়ের খবরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বর-কনেকে দেখতে সেখানে ভিড় করে উৎসুক মানুষ।

বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেকুল আলম রাসেল মঙ্গলবার রাতে জানান, কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাব উল্লাহ আপসের শর্তে আসামিকে জামিন দেন এবং আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দেন। সে নির্দেশনামতেই ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর সেখানে উপস্থিত সকলের মাঝে খেঁজুর বিতরণ করা হয়।

আইনি কার্যক্রম শেষে বুধবার আসামি মুক্তি পেতে পারেন বলেও জানান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুস্করনী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয় ওই উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ২০১৫ সালে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় একই উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের সজিব হোসেন লিটনের। লিটন তার অনিচ্ছায় দৈহিক সম্পর্ক করে। সেই ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সেই ভিডিও তার প্রবাসী স্বামীর পরিবারে পাঠায়। এতে স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। পরবর্তীতে তার নিকট পুনরায় পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি অপারগতা প্রকাশ করে গত অক্টোবর মাসে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাদীর দাবি অনুযায়ী আসামি তাকে ফাঁদে ফেলে ছবি তুলেছে। সেই ছবি প্রবাসী স্বামীর নিকট পাঠানোর কারণে তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। বাদী ও আসামি পক্ষ এলাকায় বিয়ের শর্তে আপস করে এসেছে। আদালত আপসের শর্তে আসামিকে জামিন দিয়েছেন। এছাড়া আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। ১০ লাথ টাকা দেনমোহরে পিপির কক্ষে বিয়ে হয়েছে।